আজ বুধবার, ২৯শে জুন ২০২২ ইং, ১৫ই আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী
top add

পাট শাকের পুষ্টিগুন ও স্বাস্থ্য উপকারিতা ।

13 September, 2018, 9:25 pm

মো. জসিম উদ্দিন (সাংবাদিক), পাটের কচি পাতাকেই পাট শাক বলে । পাটশাক অনেকের কাছেই প্রিয় একটি খাবার। এটি শুধু শাক হিসেবে মুখরোচক নয়। পাটের পাতায় রয়েছে অনেক জানা অজানা পুষ্টি গুণ। পাটশাক সাধারণত ভেজে নিয়ে গরম ভাতের সাথে খাওয়া হয়। পাট শাক স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন হৃৎপিণ্ডের দক্ষতা বৃদ্ধি করে, হজম শক্তি বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শক্ত হাড় গঠন করে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে, অনুভূতি শক্তি বাড়ায়, ঘুমের অভ্যাস স্বাভাবিক করে, শরীর বৃদ্ধি ও গঠনের ভারসাম্য রক্ষা করে, রক্ত সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে, এবং প্রদাহ ও জ্বালা কমায়।
পাট শাকের পুষ্টি গুণ: পাট পুষ্টি গুণে ভরপুর একটি শাক।, পাটশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, অ্যালকালয়েড, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন, লিপিড, কার্বোহাইড্রেট , ফলিক অ্যাসিড, ফসফরাস, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন যেমন ভিটামিন সি, ই, কে, বি- ৬ এবং নিয়াসিন রয়েছে। পাট শাকে আরো আছে এন্টিঅক্সিডেন্ট ,এবং খাদ্য আঁশ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দেশীয় অন্যান্য শাকের তুলনায় পাটশাক তুলনামূলক সস্তা ও সহজলভ্য। অন্যান্য শাকের তুলনায় পাটশাকে ক্যারোটিন তথা ভিটামিন এ-ও থাকে অনেক বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম পাটশাকে রয়েছে – খাদ্যশক্তি – ৭৩ ক্যালরি, আমিষ – ৩.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম -২৯৮ মিলিগ্রাম, লৌহ – ১১ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন – ৬৪০০ আইইউ।
পাট শাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা:
রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে: পাটশাকের বিদ্যমান পটাশিয়াম মানব দেহের শিরা উপশিরার বিস্তৃতি বাড়িয়ে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সহায়তা করে।
কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে:পাটশাকে প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকে যা রক্তে হেমোগ্লোবিন উৎপাদনে সহায়তা করে। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ হেমোগ্লোবিন থাকায় স্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
হজম শক্তি বৃদ্ধি করে: পাটশাকে বিদ্যমান পুষ্টি আঁশ খাবার হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে এবং পুষ্টি অঙ্গীভূত করতে সহায়তা করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
হৃৎপিন্ড ভাল রাখে: রক্তের কোলেস্ট্রোল ভোজ্য আঁশের সাথে যুগলবন্দি হয়ে শরীর থেকে বেড়িয়ে যায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্টোকের ঝুঁকি কমে যায়।
হাড়ের ক্ষয়পূরণ করে: প্রচুর পরিমাণ আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান হাড় গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে এবং অস্টিওপরোসিস রোগ নিরাময় করে।
প্রদাহ উপশম করে: ভিটামিন ই শরীরে প্রদাহ উপশমের শক্তি হিসাবে কাজ করে। গেঁটেবাত, আর্থরাইটস এবং প্রদাহ জনিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধের জন্য পাট শাক একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ্য।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: পাট শাকের ভিটামিন এ, ই এবং সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মুখের ঘা দূর করতে সাহায্য করে। রক্তের শ্বেত কণিকা বৃদ্ধি করে এবং চোখ, হৃদপিণ্ডসহ নানা রোগের উপকার করে।
রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে: পাটশাকে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত পাটশাক খেলে হার্ট অ্যাটাক এবং ষ্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।
রুচি বাড়ায়: তেতো স্বাদের পাটশাক খাওয়ার রুচি বাড়ায়। মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনে ও মেদ বৃদ্ধির আশঙ্কা কমায়। পাটশাকের তেতো স্বাদ মুখে লালা ক্ষরণ করে শ্বেতসারকে ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে খাবারের রুচি বাড়ে।
আয়রণের ঘাটতি পুরণ করে: পাটশাকে প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকে। যা রক্তে হিমোগ্লে¬াবিন উৎপাদনে সহায়তা করে। দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি করে।
হজম শক্তি বাড়ায়: পাটশাকে থাকা খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
নিদ্রাহীনতা দূর করে: পাটশাকে থাকা ম্যাগনেশিয়াম উপাদান শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে যা স্নায়ুতন্ত্র শান্ত রাখে এবং নিরবচ্ছিন্ন নিদ্রা নিশ্চিত করে।
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পুরণ করে: পাটশাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে যা হাড় ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। তাছাড়া এতে থাকা আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান হাড় গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে।
বাড়ন্ত শিশুর পথ্য: পাট শাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম আছে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বৃদ্ধির জন্য শিশু খাদ্য তালিকায় পাট শাক থাকা জরুরি।
এছাড়া, পাটশাক যেকোনো ধরনের ক্যানসার রোধে সহায়তা করে। পাটশাক খাওয়ার রুচি বৃদ্ধি করে এবং মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনে। পাটশাকে রয়েছে ভিটামিন সি ও ক্যারোটিন যা মুখের ঘা দূর করতে সাহায্য করে। রাতকানা রোগের বিরুদ্ধে লড়তে পাটশাক সাহায্য করে। যারা কোষ্ঠকাঠিন্য ভুগছেন, তারা নিয়মিত পাটশাক খেলে উপকার পাবেন। যাদের বাতে ব্যথা আছে তাদের জন্য পাটশাক উপকারী। দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে পাটশাক সহায়তা করে। রক্ত পরিষ্কারক হিসেবেও পাটশাক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। পাটশাকে টিউমার ও ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদান রয়েছে। হাড়ের ভক্সগুরতা রোধ করতে ও হাড় ভালো রাখতে খেতে পারেন পাটশাক। পাটশাক দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।